এখন তোমাকে নিয়ে খেঙরার নোংরামি,
এখন তোমাকে ঘিরে খিস্তি-খেউড়ের পৌষমাস !
তোমার মুখের দিকে আজ আর যায় না তাকানো,
বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।
আজ তেইশ অক্টোবর। জনপ্রিয় কবি শামসুর রাহমান এর আজ জন্মদিন।নিজ কর্ম দক্ষতায় নিজেকে যিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশের এক জন প্রধান কবি হিসেবে। নাগরিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধ, গণ-আন্দোলন তাঁর কবিতায় নানা অনুভূতিতে রূপায়িত হয়েছে। তাঁর কবিতা তাই দেশপ্রেম ও সামাজিক সচেতনতায় সতেজ ও দীপ্ত।
শামসুর রাহমান পেশায় সাংবাদিক ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি “মর্নিং নিউজ”, রেডিও বাংলাদেশ, দৈনিক গণশক্তি ইত্যাদি পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় এক দশক তিনি ছিলেন দৈনিক বাংলার সম্পাদক।
এ পর্যন্ত তাঁর ৪০টিরও বেশি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। কবিতা অনুবাদেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। এছাড়া উপন্যাস, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথাও লিখেছেন তিনি। শিশুদের জন্যও তিনি চমৎকার কবিতা লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কর্মঃ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, বন্দী শিবির থেকে, আমি অনাহারী, নায়কের ছায়া, আমার কোন তাড়া নেই, হোমারের স্বপ্নময় হাত, শিরোনাম মনে পড়ে না, আমরা কয়জন সঙ্গী, কালের ধূলোয় লেখা, স্মৃতির শহর, একান্ত ভাবনা ।
তিনি তাঁর অনবদ্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। যেমনঃ বাংলা একাডেমী পুরস্কার(১৯৬৯) , একুশে পদক (১৯৭৭), মিতসুবিশি পুরস্কার (১৯৯২), মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার(১৯৯১), আনন্দ পুরস্কার (১৯৯৪)।
তিনি ১৯২৯ সালের এইদিনে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৬ সালের ১৭ই অগাস্ট তিনি ৭৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।