আপনি এখানে : হোম : : জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমীতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমীতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত রবিবার বাংলা একাডেমীর সেমিনার কক্ষে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে নজরুল গানের শ্রেণী বিন্যাস শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন ড.লীনা তাপসী খান।আলোচনা করেন অধ্যাপক করুনাময় গোস্বামী ও নাট্যজন খায়রুল আলম সবুজ।অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক গোলাম মুরশিদ।উল্লেখ্য,২৭ আগস্ট শুক্রবার কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।এসময় উপস্থিত ছিলেন একাডেমীর সচিব ও পরিচালকবৃন্দ।

প্রাবন্ধিক লীনা তাপসী খান বলেন,নজরুল রাগ সঙ্গীতের কারিগর ছিলেন।তার গানে রাগের বিভিন্ন আঙ্গিকগুলো অত্যন্ত জোরালো।তাই বিষয়ভিত্তিক শ্রেণীকরণের চেয়ে নজরুলের গানের আঙ্গিকগত শ্রেণীকরণই বেশি যুক্তিযুক্ত।

জনাব খায়রুল আলম সবুজ বলেন, শ্রেণীবিন্যাস একটি প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়।প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষনের জন্য নজরুল গানের শ্রেণিবিন্যাস করা জরুরী।যদিও কাজী নজরুল অনেক গান লিখেছেন কিন্তু আমরা তার খুব অল্প সংখ্যক গান শুনতে পাই।তার অপরিচিত গানগুলোকে যথাযথভাবে সংগ্রহ-সংরক্ষণ করে শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।

অধ্যাপক করুনাময় গোস্বামী বলেন, নজরুলের প্রায় তিনহাজার গান সংগৃহীত হয়েছে।এর মধ্যে প্রায় ১৫০০ গানের সুর পাওয়া যায়, বাকিগুলোর সুর হয়নি অথবা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।নজরুলের গানকে স্বরলিপির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গানের প্রচুর চর্চ্চা হওয়া উচিত। অপ্রচলিত গানগুলোর প্রচলনের জন্য টিভি মিডিয়াগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

সভাপতির ভাষনে অধ্যাপক গোলাম মুরশিদ বলেন, সঙ্গীত শোনার ও বোঝার বিষয়।প্রকৃত অর্থে গানের তেমন কোন শ্রেণীকরণ হয়না। শ্রেণীকরণ করলে গান বুঝতে খুব একটা সহজ হয় তেমনটা নয়।তবে শ্রেণীকরণের ফলে গানের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্লেষন সহজ হয়।গানের বহুলতর প্রচার এবং চর্চ্চার মাধ্যমেই গভীরতর ব্যাখ্যা বিশ্লেষনের সময় এসেছে।এবিষয়ে তিনি গবেষকদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, ফেরদৌস আরা, খায়্রুল আনাম শাকিল এবং সুজিত মোস্তফা।যন্ত্রানুসঙ্গে ছিলেন বেনু চক্রবর্তী, গাজী আব্দুল হাকিম, ফিরোজ খান,আলমাস আলি ও সাঈদ হোসেন সেন্টু প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন