অধ্যাপক জাহাঙ্গীর তারেক স্মরণসভা
বাংলা একাডেমী আজ ১৪ই শ্রাবণ ১৪১৭/২৯শে জুলাই ২০১০ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমীর সেমিনার কক্ষে অধ্যাপক জাহাঙ্গীর তারেক স্মরণে এক সভার আয়োজন করে। সভায় স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৌরভ শিকদার, অধ্যাপক ড. সাখাওয়াৎ আনসারী, সহযোগী অধ্যাপক ড. এ.বি.এম. রেজাউল করিম ফকির ও কবি আসাদ চৌধুরী এবং জাহাঙ্গীর তারেকের পত্নী সাউথ ব্রিজ স্কুলের শিক্ষক জনাব রাফিয়া তারেক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
স্বাগত ভাষণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর তারেক ছিলেন ভাষাজ্ঞানে দক্ষ একজন মানুষ। তাঁর যে ধরনের দক্ষতা ছিল তা বর্তমান সমাজে বিরল। তিনি নানাকর্মযজ্ঞে নিজেকে আমৃত্যু নিয়োজিত রেখেছিলেন। প্রতিটি কাজের প্রতি ছিল তাঁর একনিষ্ঠ আন-রিকতা। অধ্যাপক তারেকের অকাল প্রয়াণে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ হবার নয়। তিনি বলেন, অধ্যাপক তারেক বিচিত্র বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করলেও তার যোগ্য সম্মান বা পুরস্কার পাননি। এটা আমাদের আহত করে। আমাদের উচিত তাঁর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সম্মান জানানো।
ড. এ. বি. এম. রেজাউল করিম ফকির বলেন, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর তারেক ব্যক্তিত্ব ও জ্ঞান দ্বারা আমাদেরকে প্রভাবিত করেছেন। মাতৃভাষার উন্নয়ন, বিদেশি ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ, গবেষণা কার্য সম্পাদন ইত্যাদি বিষয়ে জাহাঙ্গীর তারেকের আগ্রহ ও কর্মের বিস্তৃতি ছিল ব্যাপক।
অধ্যাপক ড. সৌরভ শিকদার বলেন, জাহাঙ্গীর তারেক একজন মানুষ যিনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন- সদালাপী, জ্ঞানচর্চায় নিভৃত, বহুভাষা আত্মস’ করে সেসব ভাষায় অনুবাদ করার মতো যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। বাংলাদেশে ভাষাবিজ্ঞান ও বিদেশি ভাষাচর্চার ক্ষেত্রে তিনি একজন পথিকৃৎ।
অধ্যাপক ড. সাখাওয়াৎ আনসারী বলেন, জাহাঙ্গীর তারেক তাঁর জ্ঞান অন্বেষণের ধারা আজীবন প্রবাহমান রেখেছিলেন। তাঁর জ্ঞান বিলিয়ে দেয়ার জন্য তিনি গ্রন’ রচনা করেছেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ থেকে অদ্যাবধি ভাষাবিজ্ঞানে যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদের মধ্যে জাহাঙ্গীর তারেক অন্যতম। তিনি শব্দার্থ বিজ্ঞানের মৌলিক গ্রন’ রচনা করেছেন। তিনি কঠিনকে ভালোবেসেছেন আর তা বহমান ছিল মৃত্যু পর্যন্ত। জ্ঞান ও ধ্যান ছিল তাঁর চলার পথের পাথেয়। জ্ঞানের চর্চার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ। তাঁকে পণ্ডিত বললে যথার্থ হবে না, প্রকৃতপক্ষে জাহাঙ্গীর তারেক ছিলেন সুপণ্ডিত।
কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষাজীবনে জাহাঙ্গীর তারেক ছিলেন খুবই পড়-য়া স্বভাবের। জাহাঙ্গীর তারেক অনেকগুলো ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। তাঁর পাণ্ডিত্যের গভীরতা অনুধাবন করা দুরূহ। তিনি বলেন, জাতি যখন প্রচণ্ড দুর্যোগের মধ্যে থাকে তখন বাংলা একাডেমী বটবৃক্ষের মতো আমাদের ছায়া বিস-ার করে। আজকের জাহাঙ্গীর তারেক স্মরণে এই সভার আয়োজন তারই প্রমাণ বহন করে।
জনাব রাফিয়া তারেক বলেন, জাহাঙ্গীর তারেক ছিলেন অসামপ্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ। অনেক ভাষা রপ্ত করলেও বাংলা ভাষা ছিল তাঁর প্রাণের ভাষা। তিনি বিশ্বাস করতেন, কোনো ভাষা শিখলে তা বিশুদ্ধভাবে শিখতে হবে। তিনি বলেন, বাংলা একাডেমী জাহাঙ্গীর তারেকের অত্যন্ত- প্রিয় ও শ্রদ্ধার একটি স’ান ছিল। আজকের এই স্মরণ সভার আয়োজনের জন্য বাংলা একাডেমী কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৯০ বছরের ইতিহাসে জাহাঙ্গীর তারেকের মতো ছাত্র আর আসেনি। তার যে বৈশিষ্ট্য ছিল তা খুবই বিরল। তিনি ছিলেন কিংবদনি-তুল্য একজন মানুষ। তিনি আজীবন জ্ঞানের সাধনা করে গেছেন। সভাপতি বলেন, বাংলা একাডেমী জাহাঙ্গীর তারেকের জীবনী ও জাহাঙ্গীর তারেক রচনাবলি প্রকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাকে তুলে ধরার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় তবে তা হবে একটি জাতীয় পুরস্কারের চেয়েও বড় কাজ।