আপনি এখানে : হোম : : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমীর আয়োজন

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমীর আয়োজন

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে গতকাল ৩০শে অগ্রহায়ণ ১৪১৭/১৪ই ডিসেম্বর ২০১০ মঙ্গলবার সকাল ৮:০০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পস-বক অর্পণ করেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এ সময় একাডেমীর সচিব, পরিচালক, উপপরিচালক এবং সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
বিকেল ৪:০০টায় একাডেমীর নজরুল মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস : একটি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম। আলোচনা করেন সেন্টার ফর হায়ার স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ-এর সভাপতি অধ্যাপক শফিউদ্দিন আহমদ, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, সেন্টার ফর কমিউনিকেশন-এর নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর এবং উদয়ন স্কুলের শিক্ষক শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী।
রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার প্রাক্কালে দখলদার পাকিস্তান বাহিনীর হাতে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বাগত ভাষণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালি জাতি যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে-, এদেশের বুদ্ধিজীবী সমপ্রদায় জাতি ও রাষ্ট্র গঠনে তৎপর, ঠিক তখনই তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বুদ্ধিজীবী হত্যার মাধ্যমে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জাতিকে সমূলে উৎপাটনের সুপরিকল্পিত প্রয়াস নেয়। আজকের প্রবন্ধকার এতদ্‌সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ করবেন।
প্রাবন্ধিক অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্বমুহূর্ত পর্যন- বাঙালির রাজনৈতিক আন্দোলনে পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৬১ সালের রবীন্দ্রশতবার্ষিকী কিংবা ১৯৬৭ সালে পূর্ব-পাকিস্তান বেতার-টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করার কথা স্মরণ করা যেতে পারে। এটা প্রমাণ করা মোটেই অসম্ভব নয় যে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সবসময়ই পাকিস্তানি ভাবাদর্শের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী এক হাতিয়ার ছিল। তা চরমভাবে মূর্ত হয়ে ওঠে ১৯৬৬ সালে যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ছয় দফা ঘোষণা করেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করেও পাকিস-ানের শাসকশ্রেণী তার গতি স-ব্ধ করতে পারেনি। তাই পাকিস্তান সরকার এবং এদেশের পাকিস্তানি আদর্শের ধারক-বাহকদের এত ক্ষোভ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ওপর।  বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পথ ধরে যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে ওঠে তা স্বাধীনতার পরও আক্রমণের শিকার হয় গুপ্ত পাকিস্তানপন্থি’দের বন্দুকের নলের। তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা আমাদের দেশপ্রেম ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে এক সুদৃঢ় অবয়ব দান করেছেন। তাঁরা সমগ্র বাঙালি জাতির নমস্য।
প্রগতিশীলদের উপর প্রতিক্রিয়াশীলদের ক্রোধ প্রসঙ্গে স্বামী আলীম চৌধুরীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, প্রতিক্রিয়াশীলচক্রের পূর্বেকার চক্রান্ত- আজও বিদ্যমান। পূর্বের ন্যায় আজও তারা প্রগতিশীলদের হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যুদ্ধাপরাধীদের সুষ্ঠু বিচার আজও সম্পন্ন হয়নি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এবং তার দোসররা বুদ্ধিজীবীদের যে তালিকা তৈরি করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং ভয়াবহ নৃশংসতার দিকে এগুতে পারে যদি না বর্তমান মহাজোট সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে না পারে। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকার তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করবে।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, বিজয়ের ঊষালগ্নে হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের যৌথ উদ্যোগে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। যুদ্ধপরবর্তী ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত রাও ফরমান আলী’র ডায়েরি থেকে পাকিস্তান সামরিক জান্তার বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সম্যক প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, জেনারেল জ্যাকবের দূরদর্শিতার কারণে পাকিস-ান বাহিনীর পরিকল্পিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান বিলম্বিত করা সম্ভব হয়নি। তা হলে হয়তো বাংলাদেশের আরও অগণিত শিল্পী-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতো। তিনি আরও বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলোতে স্কুল-কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে আলোচ্য বিষয়ে তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
অধ্যাপক শফিউদ্দিন আহমদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বহুমাত্রিক লেখনিতে বাংলার মেহনতি মানুষ তথা কৃষক-শ্রমিক-মজুরদের অংশগ্রহণ আজও স্বীকৃত হয়নি। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বর্তমান সরকারের যথাযথ ব্যবস’া গ্রহণ করা উচিত। না হলে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস কখনোই রচিত হবে না। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধ তথা দেশের ইতিহাসকে সুষ্ঠুভাবে তুলে ধরা জরুরি। কারণ তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনে এ দেশ পরিচালনা করবে।
সভাপতির ভাষণে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন, জাতীয়ভাবে উদ্‌যাপিত দিবসগুলোর মধ্যে কিছু দিবস চরম বেদনা ও গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা পালন করি যার মধ্যে অন্যতম হলো শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পেছনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল এদেশের মূল্যবোধ গঠনকারী বুদ্ধিজীবীদের সমূলে হত্যা করা। এটা সত্য যে, ১৯৭১ সালে প্রয়াত বুদ্ধিজীবীরা বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কতি অঙ্গন আরও গতিময় হয়ে উঠত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মুক্তবুদ্ধির চর্চা নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী তিমির নন্দী, কল্যাণী ঘোষ, রূপা ফরহাদ, মাহমুদুজ্জামান বাবু প্রমুখ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন দিপক কুমার দাস, মোঃ শহিদুল ইসলাম, বিদ্যুৎ রায়, মোঃ আবু কামাল এবং সুমন রেজা খান।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসশহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আজ ৩০শে অগ্রহায়ণ ১৪১৭/১৪ই ডিসেম্বর ২০১০ মঙ্গলবার সকাল ৮:০০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পস-বক অর্পণ করেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এ সময় একাডেমীর সচিব, পরিচালক, উপপরিচালক এবং সকল স-রের কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপসি’ত ছিলেন।বিকেল ৪:০০টায় একাডেমীর নজরুল মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস : একটি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস’াপন করেন অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম। আলোচনা করেন সেন্টার ফর হায়ার স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ-এর সভাপতি অধ্যাপক শফিউদ্দিন আহমদ, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, সেন্টার ফর কমিউনিকেশন-এর নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর এবং উদয়ন স্কুলের শিক্ষক শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী।রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার প্রাক্কালে দখলদার পাকিস-ান বাহিনীর হাতে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বাগত ভাষণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, পাকিস-ান বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালি জাতি যখন বিজয়ের দ্বারপ্রানে-, এদেশের বুদ্ধিজীবী সমপ্রদায় জাতি ও রাষ্ট্র গঠনে তৎপর, ঠিক তখনই তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বুদ্ধিজীবী হত্যার মাধ্যমে পাকিস-ান সামরিক বাহিনী বাঙালি জাতিকে সমূলে উৎপাটনের সুপরিকল্পিত প্রয়াস নেয়। আজকের প্রবন্ধকার এতদ্‌সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ করবেন।প্রাবন্ধিক অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্বমুহূর্ত পর্যন- বাঙালির রাজনৈতিক আন্দোলনে পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৬১ সালের রবীন্দ্রশতবার্ষিকী কিংবা ১৯৬৭ সালে পূর্ব-পাকিস-ান বেতার-টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করার কথা স্মরণ করা যেতে পারে। এটা প্রমাণ করা মোটেই অসম্ভব নয় যে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সবসময়ই পাকিস-ানি ভাবাদর্শের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী এক হাতিয়ার ছিল। তা চরমভাবে মূর্ত হয়ে ওঠে ১৯৬৬ সালে যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ছয় দফা ঘোষণা করেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করেও পাকিস-ানের শাসকশ্রেণী তার গতি স-ব্ধ করতে পারেনি। তাই পাকিস-ান সরকার এবং এদেশের পাকিস্তানি আদর্শের ধারক-বাহকদের এত ক্ষোভ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ওপর।  বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পথ ধরে যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে ওঠে তা স্বাধীনতার পরও আক্রমণের শিকার হয় গুপ্ত পাকিস্তানপন্থিদের বন্দুকের নলের। তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা আমাদের দেশপ্রেম ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে এক সুদৃঢ় অবয়ব দান করেছেন। তাঁরা সমগ্র বাঙালি জাতির নমস্য। প্রগতিশীলদের উপর প্রতিক্রিয়াশীলদের ক্রোধ প্রসঙ্গে স্বামী আলীম চৌধুরীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, প্রতিক্রিয়াশীলচক্রের পূর্বেকার চক্রান্ত- আজও বিদ্যমান। পূর্বের ন্যায় আজও তারা প্রগতিশীলদের হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যুদ্ধাপরাধীদের সুষ্ঠু বিচার আজও সম্পন্ন হয়নি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তার দোসররা বুদ্ধিজীবীদের যে তালিকা তৈরি করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং ভয়াবহ নৃশংসতার দিকে এগুতে পারে যদি না বর্তমান মহাজোট সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে না পারে। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকার তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করবে। মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, বিজয়ের ঊষালগ্নে হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের যৌথ উদ্যোগে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। যুদ্ধপরবর্তী ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত রাও ফরমান আলী’র ডায়েরি থেকে পাকিস্তান সামরিক জান্তার বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সম্যক প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, জেনারেল জ্যাকবের দূরদর্শিতার কারণে পাকিস্তান বাহিনীর পরিকল্পিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান বিলম্বিত করা সম্ভব হয়নি। তা হলে হয়তো বাংলাদেশের আরও অগণিত শিল্পী-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতো। তিনি আরও বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলোতে স্কুল-কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে আলোচ্য বিষয়ে তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। অধ্যাপক শফিউদ্দিন আহমদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বহুমাত্রিক লেখনিতে বাংলার মেহনতি মানুষ তথা কৃষক-শ্রমিক-মজুরদের অংশগ্রহণ আজও স্বীকৃত হয়নি। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বর্তমান সরকারের যথাযথ ব্যবস’া গ্রহণ করা উচিত। না হলে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস কখনোই রচিত হবে না। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধ তথা দেশের ইতিহাসকে সুষ্ঠুভাবে তুলে ধরা জরুরি। কারণ তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনে এ দেশ পরিচালনা করবে।সভাপতির ভাষণে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন, জাতীয়ভাবে উদ্‌যাপিত দিবসগুলোর মধ্যে কিছু দিবস চরম বেদনা ও গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা পালন করি যার মধ্যে অন্যতম হলো শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পেছনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল এদেশের মূল্যবোধ গঠনকারী বুদ্ধিজীবীদের সমূলে হত্যা করা। এটা সত্য যে, ১৯৭১ সালে প্রয়াত বুদ্ধিজীবীরা বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কতি অঙ্গন আরও গতিময় হয়ে উঠত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মুক্তবুদ্ধির চর্চা নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন।সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী তিমির নন্দী, কল্যাণী ঘোষ, রূপা ফরহাদ, মাহমুদুজ্জামান বাবু প্রমুখ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন দিপক কুমার দাস, মোঃ শহিদুল ইসলাম, বিদ্যুৎ রায়, মোঃ আবু কামাল এবং সুমন রেজা খান।

আপনার মন্তব্য লিখুন